ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা: নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের প্রতিশোধ নিতে এমনটি করেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।

এই ঘটনার রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হতে পারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। কিছুদিন আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলে ফিরেছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আবুধাবিতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার কিছুক্ষণ আগে নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ইসরায়েলের শত্রুরা তত বেশি হামলার চেষ্টা করবে। তিনি একটি ইসরায়েলি বিমানঘাঁটি থেকে শত্রুদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ‘ঝামেলায় না জড়াতে’।

ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান, লেবানন ও গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। গাজায় ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস ডেকে এনেছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছেও ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা তৈরি করেছে।

তবে এসব সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সম্পর্ক উন্নত করতে পারেনি। ২০২০ সালে শুরু হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি এখনও হয়নি। সৌদি আরব জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুতর আলোচনা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে তারা এগোবে না।

গাজা যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরায়েল বিভিন্ন দেশের সমালোচনার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এদিকে নেতানিয়াহু নিজ দেশে রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে বিচার চলছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

বিভিন্ন জরিপ একত্র করলে নেতানিয়াহু-সমর্থিত জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫২টি আসন পেতে পারে। সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন একটি জোটও একই সংখ্যক আসন পেতে পারে। বাকি ১৬টি আসন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বয়ানকে আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই বয়ানে ইসরায়েলকে চারপাশের সহিংসতার মধ্যে একটি নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং নেতানিয়াহুকে এমন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন।

তবে ছিনতাইয়ের চেষ্টার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা আলাদাভাবে তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়।

All Categories