এনদ্রিকের ঝড়ে ৪-৩, রোমাকে উল্টে দিল রিয়াল

অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল এএস রোমা। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন বদলে দাঁড়াল ৪-৩—জয়ী দলটা রিয়াল মাদ্রিদ! মাত্র ৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ঝড়ে তিন গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

এই প্রত্যাবর্তন গড়েছে রেকর্ডও। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্রুততম সময়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের নজির এটি। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে চার ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও জয়ের কীর্তি গড়ল রিয়াল—২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩ সালে লিভারপুল, ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং এবার আবার রোমার বিপক্ষে।

জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা কোচ জোসে মরিনিওর বদলির সিদ্ধান্তের। ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ও ডামফ্রিজকে তুলে এনদ্রিক ও আরদা গুলেরকে নামান তিনি। পরে দিয়ামন্দের জায়গায় নামেন কার্লোস এসপি। শেষ দিকের তিন গোলেই অবদান এই বদলিদের।

সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এনদ্রিক। ৮৩ মিনিটে তাঁর শট রোমা গোলরক্ষক গোলিনি ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করেন এসপি। এরপর রোমার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেডে নিজেও গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই জিতে নিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

ম্যাচ শেষে এনদ্রিক বলেন, 'আমি তখন বেঞ্চে বসে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ দেখি আমাকে ডাকা হচ্ছে। মাঠে নেমেও ঈশ্বরের সঙ্গে কথা চালিয়ে গেছি। আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, স্কোর যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত লড়াই করি। ৩-১ থেকে ৪-৩ করাই তার প্রমাণ।'

প্রথমার্ধের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন মরিনিও। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'প্রথমার্ধের দায় কোচের, দ্বিতীয়ার্ধের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।'

তবে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। কোচের সিদ্ধান্ত বুঝতে না পারায় 'রাগ করাটাই স্বাভাবিক' বলে মন্তব্য করেন তিনি। মরিনিওর মতে, রোমার দ্বিতীয় গোলের আগে ভিনি এমন একটি বল হারিয়েছেন যা হারানো উচিত হয়নি; তবে ম্যাচ শেষে জয় নিয়ে তিনি ভীষণ খুশি ছিলেন।

All Categories