দিল্লি বিমানবন্দরে সিজেপি নেতাদের আটক করতে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন

শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে দিল্লি বিমানবন্দরে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট অবতরণ করার পরপরই পুলিশ বিমানে ঢুকে তিনজনকে আটক করে। তবে দিপক ও তার সঙ্গীদের আটক করতে নারী কর্মকর্তাদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত।

এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল ছিল কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি। দিল্লি পুলিশ সম্ভবত পুরুষ কর্মকর্তাদের পাঠালে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কা করেছিল। বিমানের ভেতরে চলাচলের পথ সরু এবং নড়াচড়ার জায়গা কম থাকায় সামান্য ধস্তাধস্তি দ্রুত বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে পারে।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে নারী কর্মকর্তাদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর, দিপক ও অন্য সিজেপি নেতাদের আটক করা হয়েছে। ২০ জুলাইয়ের বিশৃঙ্খলার স্মৃতি পুলিশের মনে এখনও তাজা। সেই প্রেক্ষাপটে নারী কর্মকর্তাদের ব্যবহার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ বলে মনে হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংসদের দিকে মিছিল করার সময় ২০ জুলাই সহিংসতা শুরু হয়। সিজেপি অভিযোগ করে, পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তারা তরুণীদের মারধর করেছেন। সংগঠনটির দাবি ছিল, ১২ বছর বয়সী মেয়েদেরও মাথা ফেটেছে এবং পোশাক ছিঁড়েছে। সিজেপির সমর্থক মূলত তরুণ ও জেন-জি। তাই পুরুষ কর্মকর্তাদের দ্বারা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তার ভাবমূর্তিগত প্রভাব এড়াতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। নারী কর্মকর্তারা সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হতে পারেন।

পুলিশ বিমানে উঠতেই জানালার পাশের আসন থেকে ভিডিও করতে শুরু করেন দিপক। মাঝের আসনে ছিলেন দাস এবং তার পাশে ছিলেন রাঙ্কা। পুলিশ কর্মীদের দেখেই সিজেপি নেতারা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিমানের ভেতরের দৃশ্যে দেখা যায়, প্রায় এক ডজন নারী পুলিশ সদস্য সিজেপি নেতাদের ঘিরে ধরেছেন। দিপক আটকানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি পুলিশকে বলেন, তাদের নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেত।

দিপককে বলতে শোনা যায়, "আপনারা দেখতে পাচ্ছেন দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। তারা সরাসরি বিমান থেকেই আমাদের গ্রেফতার করতে এসেছে। এমন কিছু ইন্দিরা গান্ধীও করেননি। এটা স্বৈরতন্ত্র।" তিনি আরও বলেন, "আমি গ্রেফতার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেফতার করুন।" পুরো সময় নারী কর্মকর্তাদের দিপক ও অন্যদের সহযোগিতার অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। এরপর দিপক, দাস ও রাঙ্কাকে আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’-এর ডাক দেওয়া সিজেপি নেতাদের এই আটককে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

All Categories