চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু

কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বুঝে নেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। গত ৮ অক্টোবর ঢাকার বিনিয়োগ ভবনের মিলনায়তনে উভয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। এই টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে চুক্তির শর্তাবলী এখনও প্রকাশ পায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুক্তি হওয়ার পর টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এনসিটি নিয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী, শ্রমিক সংগঠন, বাম রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে না দিতে বন্দরে কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ ও বন্দর ভবন ঘেরাও করা হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির মেয়াদ প্রথমে ১৫ বছর হলেও পরবর্তী সময়ে নবায়নের বিধান রাখা হয়েছে। চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত অর্থবছরে দেশীয় অপারেটররা এই টার্মিনালে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।

এদিকে, এনসিটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবিতে গত সোমবার বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করতে হবে। সরকারকে আমরা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিলাম। এর মধ্যে কোনও উদ্যোগ না নেওয়া হলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনসিটির চুক্তিতে কী আছে তা আমরা জানি না। দেশের জনগণও জানে না। আমরা চাই সরকার অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করুক।’

এনসিটির সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ব্যবসায়ী নেতারা বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। তবে, প্রাইভেট সেক্টরে গেলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়ার সুযোগ থাকে। এটি বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে কী আছে সেটা আমাকে জানানো হয়নি। এ কারণে আমি কিছু জানি না। তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে এ সম্পর্কে আমার জানা উচিত ছিল।’

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ২০০৭ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ টার্মিনালটিতে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভিড়ানো যায়। বর্তমানে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।

All Categories