চালন্দা গিরিপথ: পাহাড়ি রোমাঞ্চের নতুন গন্তব্য
চট্টগ্রামের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে চাইলে চালন্দা গিরিপথে ঘুরে আসতে পারেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সবুজ পাহাড়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা এই গিরিপথ প্রকৃতিপ্রেমী ও ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে আসা ঠান্ডা পানির ধারা, পাথুরে পথ এবং দুই পাশের সবুজ পাহাড় পুরো পথটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে।
চালন্দা গিরিপথে যাওয়ার পথটিও কম আকর্ষণীয় নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের কাছাকাছি ‘কলা ঝুপড়ি’ এলাকা থেকে হাঁটার পথ শুরু হয়। এরপর ঝিরিপথ ধরে এগোতে হয়। কোথাও পাথরের ওপর দিয়ে পানি বয়ে যায়, আবার কোথাও পাহাড়ের খাঁজের ভেতর দিয়ে সরু পথে হাঁটতে হয়। পথের দুই পাশে ঘন সবুজ আর ঝিরির স্বচ্ছ পানি অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করে।
গিরিপথের ভেতরে ঢুকলে চারপাশের পরিবেশ আরও বদলে যায়। উঁচু পাহাড়ের মাঝে আলো-ছায়ার খেলা, পানির শব্দ আর পাখির ডাক মিলিয়ে মনে হতে পারে শহর থেকে অনেক দূরে কোনো অচেনা পাহাড়ি এলাকায় চলে এসেছেন। তবে পথটি দুর্গম হওয়ায় হাঁটার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বর্ষায় পাথর ও মাটির পথ পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে।
চালন্দা গিরিপথে যেতে হলে প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। চট্টগ্রামের বটতলী বা ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে শাটল ট্রেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া বাস বা সিএনজিতেও যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত চক্রাকার বাসসেবা বিনামূল্যে চালু রয়েছে, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছে জিরো পয়েন্ট থেকে স্থানীয় টমটমে করে কলা ঝুপড়ি এলাকায় যেতে হয়। এরপর শুরু হবে হাঁটা ও ট্রেকিংয়ের পথ। কলা ঝুপড়ির কাছাকাছি পৌঁছে কয়েক মিনিট হাঁটার পর ঝিরিপথের দেখা মেলে। সেই পানির ধারা অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে গেলে চালন্দা গিরিপথে পৌঁছানো যায়। পুরো যাত্রায় হাঁটার প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম শহর থেকে যাওয়া-আসা, ক্যাম্পাসের স্থানীয় যাতায়াত ও খাবারসহ একজনের জন্য প্রায় ৩০০–৫০০ টাকা হাতে রাখলে সাধারণত একটি স্বল্প বাজেটের দিনের ট্রিপ পরিকল্পনা করা যায়। তবে শহর থেকে যাত্রার মাধ্যম, ব্যক্তিগত/রিজার্ভ যান এবং খাবারের খরচ অনুযায়ী মোট ব্যয় বাড়তে পারে।
শুষ্ক মৌসুমে গিরিপথে হাঁটা তুলনামূলক সহজ হলেও বর্ষায় ঝিরিপথে পানির প্রবাহ বাড়লে জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে বৃষ্টির সময় পাথর ও পাহাড়ি পথ বেশি পিচ্ছিল থাকে। তাই আবহাওয়া দেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ভালো।
চালন্দা গিরিপথে যাওয়ার সময় ভালো গ্রিপের ট্রেকিং জুতা, পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী সঙ্গে রাখা ভালো। একা না গিয়ে কয়েকজনের দল নিয়ে যাওয়া নিরাপদ। দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে পারে বলেও বিভিন্ন ভ্রমণতথ্যে উল্লেখ আছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঝিরি বা পাহাড়ি পরিবেশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনও ক্ষতি না করা। রোমাঞ্চের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল থাকলেই চালন্দা গিরিপথের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন অটুট থাকবে।