বেশি খেলে ঝুঁকি বাড়ায় যেসব পুষ্টিকর খাবার
স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের জন্য উপকারী হলেও পরিমাণে বেশি খেলে তা উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, পুষ্টিগুণে ভরপুর কিছু খাবারও মাত্রাতিরিক্ত খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
পালংশাক, বিটরুট ও কিছু বাদামে অক্সালেট নামের প্রাকৃতিক যৌগ থাকে। এটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যাদের এ প্রবণতা আছে। তবে ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে সমান নয়; তা নির্ভর করে শারীরিক অবস্থা, পর্যাপ্ত পানি পান ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর।
মাছ প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, কিন্তু সব মাছে পারদের পরিমাণ এক নয়। টুনা ও কিছু বড় শিকারি মাছে তুলনামূলক বেশি পারদ থাকতে পারে। পারদ বিষাক্ত ধাতু, বেশি মাত্রায় শরীরে ঢুকলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিদিন একই ধরনের উচ্চ পারদযুক্ত মাছ বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
প্রাণীর কলিজায় প্রিফর্মড ভিটামিন এ প্রচুর থাকে। এটি অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বিষক্রিয়া হতে পারে, এমনকি লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। অন্যদিকে গাজর ও মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এ-তে রূপান্তর করে, তাই এগুলো বেশি খেলে সাধারণত ভিটামিন এ-এর বিষক্রিয়ার ঝুঁকি দেখা যায় না।
কাঠবাদাম, আখরোট ও কাজুবাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও আঁশ আছে। তবে এসবে ক্যালরিও বেশি, তাই একবারে অনেকটা খেলে বাড়তি ক্যালরি জমে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে। হঠাৎ বাদামের পরিমাণ বাড়ালে বা পর্যাপ্ত তরল না খেলে কারও কারও হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানে শুধু পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া নয়; সঠিক পরিমাণে খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখাও জরুরি। যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাদের অক্সালেটযুক্ত সব খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা ভালো।