অ্যালকালাইন পানির জনপ্রিয়তা: উপকারিতা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
শরীরের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য, এ বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই। তবে সম্প্রতি সাধারণ পানির পাশাপাশি অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় পানির প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অনেক তারকা এই ধরনের পানি পান করছেন বলে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, অ্যালকালাইন পানি কি সত্যিই সাধারণ পানির তুলনায় বেশি উপকারী? এটি কি বয়সের ছাপ কমাতে, হজমশক্তি বাড়াতে কিংবা শরীর থেকে ‘টক্সিন’ বের করে দিতে সক্ষম? এসব দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
পানির অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব বোঝাতে পিএইচ স্কেল ব্যবহার করা হয়, যার মান ০ থেকে ১৪। পিএইচ ৭-কে নিরপেক্ষ ধরা হয়। এর বেশি হলে পানি ক্ষারীয় এবং কম হলে অম্লীয়।
অ্যালকালাইন পানিতে সাধারণ পানির তুলনায় কিছুটা বেশি ক্ষারত্ব থাকে এবং এতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম বা পটাশিয়ামের মতো খনিজও থাকতে পারে।
অ্যালকালাইন পানির বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হয়, যেমন— অ্যাসিডিটি কমানো, শরীর ‘ডিটক্স’ করা, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা এবং ব্যায়ামের পর শরীরের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করা।
তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত। শরীরের অ্যাসিড-ক্ষারের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাই মূল বিষয়।
সুতরাং, শুধু অ্যালকালাইন পানি পান করলেই ওজন কমবে, বয়সের ছাপ কমবে বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ইন্টারনেটে অ্যালকালাইন পানি তৈরির জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে বেকিং সোডা বা লেবু মেশানোর পরামর্শও রয়েছে। তবে এগুলোকে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণ করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বেকিং সোডা মেশানো পানি: বেকিং সোডা পানির পিএইচ বাড়াতে পারে, তবে এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি নিয়মিত পান করা উচিত নয়।
লেবু মেশানো পানি: লেবু পানি পান করা স্বাদ ও ভিটামিন সি গ্রহণের একটি ভালো উপায় হতে পারে, তবে লেবু মেশালেই পানি অ্যালকালাইন হয়ে যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। লেবুর রস নিজেই অম্লীয়।
পানি ফুটিয়ে পান করা: পানি ফুটিয়ে নিলে জীবাণু কমানোর ক্ষেত্রে উপকার হতে পারে, বিশেষ করে নিরাপদ পানির উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে। তবে শুধু ফুটিয়ে নিলেই পানি উল্লেখযোগ্যভাবে ‘অ্যালকালাইন’ হয়ে যায়, এমন দাবি করা ঠিক নয়।
সুস্থ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি পান করা। অ্যালকালাইন পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রয়োজন আছে কি না, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।
কোনও বিশেষ রোগের চিকিৎসা হিসেবে অ্যালকালাইন পানি ব্যবহার করতে চাইলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। তারকাদের জীবনযাপন দেখে নিজের খাদ্যাভ্যাস বা পানীয়ের রুটিন বদলানোর আগে বৈজ্ঞানিক তথ্য যাচাই করাই শ্রেয়।