আট ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগে? যেসব কারণ দায়ী হতে পারে
রাতে পুরো আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনেকের সকাল শুরু হয় ক্লান্তি, ঝিমুনি আর অবসাদ নিয়ে। এর জন্য কেবল ঘুমের সময় দায়ী নয়; ঘুমের মান, অনিয়মিত অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।
ঘুম কতক্ষণ হলো, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুম কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন। বিছানায় আট ঘণ্টা কাটালেও বারবার ঘুম ভাঙলে শরীর ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। অনেক সময় এমন ঘুম ভাঙার কথা মনেও থাকে না।
দীর্ঘদিন এমন চললে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও স্বাভাবিক চিন্তাভাবনায় প্রভাব পড়ে, দিনের বেলায় অবসন্ন লাগে। তাই ঘুমের সময় বাড়ানোর চেয়ে ঘুমের মান নষ্ট করা কারণগুলো খুঁজে বের করা জরুরি।
স্লিপ অ্যাপনিয়া: এই ব্যাধিতে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা ব্যাহত হয়। ফলে ঘুম বিঘ্নিত হয়, যদিও আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি জেগে ওঠেন না। ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা বা শ্বাস আটকে আসার মতো লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনিয়মিত ঘুমের সময়: প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়ির ছন্দ নষ্ট করে। কর্মদিবসে রাত ১১টায় আর ছুটির দিনে রাত ২টায় ঘুমালে এই ছন্দ বদলে যায়, যাকে ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’ বলা হয়। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও ওঠা এবং সকালে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকা এতে সহায়ক।
ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল: বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি পান করলে ক্যাফেইন শরীরে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুমের গভীরতা কমে যায়। আর অ্যালকোহল শুরুতে ঘুম এনে দিলেও রাতের শেষভাগে ঘুমের ধারাবাহিকতা ভেঙে দেয়। ফলে সকালে উঠেও ক্লান্তি থেকে যায়।