আবরার ফাহাদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে রায় কার্যকর ও নানা দাবি জানাল
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা আবরারের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের আহ্বান জানান এবং পালিয়ে যাওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন। এছাড়া আবরারের নামে একটি সেতু নির্মাণের দাবি তুলেন তারা। আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমি চাই, আর কোনো শিক্ষার্থীর যেন এমন পরিণতি না হয়।’
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
আবরার ফাহাদকে সাত বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন, যার কারণে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।
বরকত উল্লাহ সাক্ষাতে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন যাতে তার ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং আদালত স্বাধীনভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। সরকার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বরকত উল্লাহ জানান, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারাধীন।
আবরারের বাবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পালাতক আসামিদের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তিনি দ্রুত আইনের আওতায় আসামিদের আনার দাবি জানান।
আবরারের পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং সেতুর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বরকত উল্লাহ আবরার ফাহাদের কবর পাকা করার এবং পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে পড়ছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তিনি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তখনই শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, পাঠ্যবইয়ে আবরার ফাহাদের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে এবং আবরার ফাহাদের মতো যারা নিহত হয়েছেন, তাদেরও একটি তালিকা করার দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর কোনো প্রাণ ঝরে না যায়। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়ে আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে।’
সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।