১০৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ: নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের গুলশানের ভবন ক্রোক

১০৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) রাজধানীর গুলশানের একটি ভবন ক্রোক করেছে, যা নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন। অর্থঋণ আদালতের আদেশ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুলশানের ওই ভবনে বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

জানা গেছে, ইউসিবির মহাখালী শাখা থেকে নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলের নামে ঋণ নেন নজরুল ইসলাম। সুদসহ ঋণের মোট পরিমাণ ১০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি হলেও নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটি তা পরিশোধ করছে না। গত বছরের জুলাই মাসে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংক বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির নিলাম ডাকলেও গ্রাহক না পাওয়ায় পরে মামলা করে। ইউসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অর্থঋণ আদালত এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন এবং নোটিশ টানানোর নির্দেশ দেন। ইউসিবি সেই অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দিয়েছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদার জেলে আছেন। তিনি বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কর ফাঁকি, অর্থপাচার, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া সহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপের বিষয়ে যৌথ তদন্ত করছে সরকার, যার মধ্যে নাসা গ্রুপও রয়েছে। নাসা গ্রুপ ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত ২২টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার গুলশানের ভবনে ইউসিবি একটি ‘সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে সাইন বোর্ড টানিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের প্রতিনিধিত্বে চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম মজুমদার ইউসিবির মহাখালী শাখা থেকে ঋণ নেন। ঋণ আদায়ের জন্য ইউসিবি অর্থঋণ আদালতে মামলা করেন। মামলার চলাকালীন ইউসিবির আবেদনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত এই সম্পত্তির ব্যাংকের অনুকূলে ক্রোকের আদেশ দেন। পরে আদালত ঢোল পিটিয়ে ক্রোকী পরোয়ানা জারি এবং সম্পত্তির দৃশ্যমান স্থানে নোটিশ স্থাপন করে আদালতে সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।’ নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই সম্পত্তি বর্তমানে ব্যাংকের দাবি ও স্বার্থের অধীন। সম্পত্তির ওপর ব্যাংকের বৈধ স্বার্থ ও দায়বদ্ধতা বিদ্যমান থাকায় সম্পত্তি সংক্রান্ত সব ধরনের ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, সমর্পণ, দলিল রেজিস্ট্রেশন, দখল হস্তান্তর বা অন্য কোনো লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আদালত অবমাননার শামিল হবে। তপশিল বর্ণিত সম্পত্তি সম্পর্কিত যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ বা সম্পাদনের আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের লিখিত সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক। অন্যথায় তা আইনগতভাবে অকার্যকর হবে।

All Categories