ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ: চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনায় জড়িত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের একজন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য। অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে নিজের হার্ডওয়্যার দোকান থেকে ওই ব্যবসায়ীকে এসআরবি পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন যানবাহনে করে তাঁকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন রাতেই ভিওআইপি নম্বর থেকে স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর ভাই বাঁশখালী থানায় মামলা করেন।
মামলার পর কক্সবাজারের সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় যৌথ দল। ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদরের বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যে ২১ অক্টোবর ভোরে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি (২৯), কুতুবদিয়ার মিজানুর রহমান (২৯), উখিয়ার জয়নাল উদ্দিন (২৮), বাঁশখালীর আব্বাস উদ্দিন (৩১), টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং কক্সবাজার সদরের দেলোয়ার হোসেন (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি কালো এসআরবি কটি, দুটি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, সুমন মুন্সি আগে উখিয়ায় এসআরবিতে কর্মরত থাকাকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। বিভিন্ন অপরাধে জড়ানোর অভিযোগে চাকরিচ্যুত হয়ে তিনি কারাভোগ করেন এবং সেখানে অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।
আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন সম্ভাব্য শিকারদের গতিবিধি নজরে রেখে সুমনকে তথ্য দিতেন। এরপর অপহরণ করে ভুক্তভোগীকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষত চক্রটি। পুলিশ জানায়, আব্বাসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি, জয়নালের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের তিনটি এবং ছলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা আছে।