ভারতের প্রতিবাদ, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশনকে অগ্রহণযোগ্য বললো নয়াদিল্লি

ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ায় ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তা সবসময় থাকবে।

গত বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও চীনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি খারিজ করে জানায়, এই কমিশনের কোনও ‘আইনি ভিত্তি নেই’ এবং পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে বৈধ সীমান্তও নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতে ভারতের অংশ ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অবৈধ ও বলপূর্বক দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের বা চুক্তি করার কোনও আইনি অধিকার পাকিস্তানের নেই।

ভারত আরও জানায়, ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ জিনজিয়াং ও পাকিস্তান-অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণের জন্য স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’ সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ ও ‘অকার্যকর’। ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হস্তক্ষেপ করে দখলকৃত অঞ্চলের মর্যাদা পরিবর্তন বা অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনও প্রচেষ্টা নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের এই তথাকথিত সীমান্ত সহযোগিতা সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না। পাকিস্তানকে এ ধরনের ‘নাটকবাজি’ বন্ধ করে তাদের অবৈধ দখলকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড অবিলম্বে খালি করার আহ্বান জানানো হয়েছে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’। ইসলামাবাদের সেই দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিবৃতির পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

পাকিস্তানের ওই পোস্টে বলা হয়েছিল, দুই দেশের এই যৌথ কমিশন সীমান্ত সহযোগিতা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ ও যোগাযোগ বৃদ্ধির পথ সুগম করবে। ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী বৈঠকে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাউন্ডারি অ্যান্ড ওশান অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন বিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।

All Categories