ভাইরাল অডিওতে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে মন্তব্যকারী সাবেক ওসি রাকিবুলই, নিশ্চিত করল ডিবি
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নিশ্চিত করেছে যে, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছুই হবে না’ মন্তব্য করা অডিওর কণ্ঠস্বর সাবেক ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল ইসলামের। আদালতের অনুমতি নিয়ে কণ্ঠস্বর পরীক্ষা করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, সাবেক ওসি রাকিবুলের অডিওটি আদালতের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এতে শোনা কণ্ঠ রাকিবুলেরই। তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কেন বলেছেন, এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে সজাগ রয়েছে। আইনবিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলকে কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে। যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ দলের কোনো কর্মসূচি বা নাশকতার আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মোহাম্মদপুরে ভেজাল ওষুধের কারবারে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ মঙ্গলবার ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন আব্দুল্লা আল-মামুন, মো. সাজু এবং মো. সজীব। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ মোড়কজাত করার বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে শিশুদের ব্যবহারের কয়েক ধরনের সিরাপ ও লিকুইড পণ্য রয়েছে। ভেজাল ও অনুমোদনহীন এসব পণ্য শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে এসব ওষুধের উৎস, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী এবং এ কাজে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে।