শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা আজ ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে উদযাপনের সূচনা হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে এ বছর সপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় দুর্গাপূজা ছয় দিন ধরে চলবে। ফলে এই উৎসব শেষ হবে আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে। ধর্মীয় উৎসবটি আনন্দমুখর করতে দেশজুড়ে প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়, যা পঞ্চমীতে সায়ংকালে অনুষ্ঠিত হয়।

১০ অক্টোবর দেবী দুর্গার আবাহন বা মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। দেবীপক্ষ শুরুর সাত দিন পর দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। দেবীর পূজাকে বাসন্তীপূজা বলা হয়। তবে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে দেবীর পূজার আয়োজন করেন, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত।

এ বছরের দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠী। ষষ্ঠীতিথিতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শুরু হবে। সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসব শুরু হবে। চণ্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে সকল মণ্ডপ-মন্দির এলাকা। দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল মহাসপ্তমী, রোববার মহাসপ্তমী (অধিক পূজা), সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী শেষে বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের দুর্গোৎসব।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন, যার ফল শস্যহানি। আর দেবী স্বর্গালোকে বিদায় (গমন) নেবেন নৌকায় চড়ে, যার ফল শস্যবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে, যা গত বছরের ৩৩ হাজার ৩৫৫টির তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন রয়েছে, গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে গেছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, এসআরবি ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং এসআরবির পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মণ্ডপে আজ ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হবে। পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও শেষ দিনে বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

All Categories