ঋতুপর্ণার জোড়া গোলে মিয়ানমারকে হারিয়ে মূল পর্বের পথে বাংলাদেশ
ফিফা র্যাংকিংয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ। তাদের মাঠে খেলতে নামা। এমন ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে শক্তিশালী মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে মূল পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা।
বুধবার (৩ জুলাই) ইয়াংগুনের থুয়ান্না স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে জোড়া গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন তিনি। মিয়ানমার শেষ সময়ে একটি গোল শোধ দিলেও হার এড়াতে পারেনি।
বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে তুর্কমেনিস্তানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করেছিল মিয়ানমার। ফলে আজকের জয়ে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল বাংলাদেশ। গ্রুপসেরা হয়ে মূল পর্বে টিকিট পেতে এখন শুধু তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে পা না হড়কানোই বাকি। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার।
ম্যাচের শুরুতেই বল দখল রেখে আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। অষ্টাদশ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে বক্সে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার নেওয়া ফ্রি-কিকটি প্রথমে প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে নিচু শটে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে।
৬ মিনিট পর তার আরেকটি ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৩৭ মিনিটে রুপনার ভুলে বল পেয়ে যান মিয়ানমারের অধিনায়ক খিন মো মো তুন, তবে শটটি বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও গোলরক্ষক রুপনাকে পরাস্ত করতে পারেনি মিয়ানমার, এবার বাধা হয় ক্রসবার।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে বাংলাদেশ। তবে ৭২তম মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে ঋতুপর্ণা। বক্সের ওপর থেকে ড্রিবল করে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া বাঁ পায়ের শট হাওয়ায় ভেসে মিয়ানমারের জালে জড়ায়। গোলরক্ষক ছিলেন অসহায়।
শেষ সময়ে উইন উইন একটি গোল করলেও ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই হয়নি মিয়ানমারের।
বাংলাদেশের হয়ে এদিন রক্ষণেও দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকাররা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তারা আর কোনো গোল হজম হতে দেননি।
এ জয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্ব এখন হাতছোঁয়ার দূরত্বে বাংলাদেশের মেয়েদের। তুর্কমেনিস্তানকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হবে স্বপ্নের টিকিট।