রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনের দলের রেকর্ড জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমা নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

সোমবার দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্রেমলিন বা ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচক কোনো দলের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।

রাশিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এলা পামফিলোভার প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ডুমার ৪৫০ আসনের মধ্যে ৩৫৫টিতে বিজয়ী হয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া। গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে এই দলের আধিপত্য রয়েছে।

এই জয় পুতিনের দলের ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করেছে এবং আগের ৩৪৩ আসনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা দেবে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এটি রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ক্রেমলিনের দাবি, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ১৯৯৯ সালের নববর্ষের প্রাক্কালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুতিনের পেছনে পুরো রাশিয়া একত্রিত রয়েছে।

এই যুদ্ধের ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে। মস্কো সামরিক অভিযানের সমালোচনা নিষিদ্ধ করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো একমাত্র দলটিকেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই পরিসংখ্যান রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি রুশ সমাজের ঐক্যের প্রমাণ।

পুতিনের অধীনে নির্বাচনের ফলাফল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই ইউনাইটেড রাশিয়ার জয় নিয়ে রাশিয়ায় কারোরই সন্দেহ ছিল না।

পুতিন ইউক্রেনে থাকা সেনাদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মস্কোর দখলে থাকা ইউক্রেনের কিছু এলাকাতেও ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

পামফিলোভা জানান, এবার ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশের বেশি, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান এবং ইলেক্ট্রনিক ভোটিং সিস্টেমে সাইবার হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন।

তিনি আরও জানান, ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

ইউক্রেন অভিযানের কারণে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়েছে। ভোটের শেষ দিন, রোববার মস্কোতে কিয়েভের ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়।

পামফিলোভা বলেন, ‘চরম পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা এই নির্বাচনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

এই নির্বাচনের ফল পুতিনের ক্ষমতা আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু শঙ্কা রয়েছে যে, রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক সেনা সমাবেশ শুরু হতে পারে। পুতিন অবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি, যারা পেয়েছে ৪০টি আসন। জাতীয়তাবাদী দল এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে।

যখন ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ রুদ্ধ, তখন এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কিছু অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধানদের নির্বাচনও হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মুসলিম অধ্যুষিত চেচনিয়ায় ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন রমজান কাদিরভ।

পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নির্বাসনে, কারাগারে অথবা মৃত। ২০২৪ সালে আর্কটিকের এক কারাগারে আলেক্সেই নাভালনি মারা যান।

অধিকাংশ বিরোধী প্রার্থীকে এবারের নির্বাচনে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে রাশিয়ার একমাত্র উদারপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকোও রয়েছে। তাদের পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয় এবং শুধুমাত্র সিঙ্গেল-ব্যালট লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

All Categories