পাকিস্তানের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ: সৌদি-ইরান সংঘাতে কোন পথে হাঁটবে?
সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় পাকিস্তান কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। ইসলামাবাদের জন্য রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বছরের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা ইসলামাবাদের জন্য এই ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ সম্প্রতি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্প্রসারিত হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তির আওতায়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পাকিস্তান জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলো ইরান ও হুথিদের কারণে বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সংঘাত যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে ইসলামাবাদ বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে ইতোমধ্যে পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন রয়েছে। এর আগে দ্বিপক্ষীয় সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান পরিচিত ছিল।
এখন এই সংঘাতের কারণে পাকিস্তান আরও জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
যদি সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং রিয়াদ পাকিস্তানের কাছে আরও সামরিক সহায়তা চাইলে, ইসলামাবাদকে তার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাকিস্তানের কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
ভারতের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই উপসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি বাড়ালে তা পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক ও রসদগত উভয় দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পাকিস্তান নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সংকটটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদ ইরানের কাছে সৌদি আরবের একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে, যাতে ইরানকে তার মিত্র হুথিদের সংযত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতারা তাদের ইরানি সমকক্ষদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে পাকিস্তান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পাকিস্তানও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।