নওশাবার নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার

নওশাবার নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার

গত বছর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল কাজী নওশাবা আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে আসছে তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’। পূজা উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। এতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা।

পর্দায় তাঁর উপস্থিতি সময়ের হিসাবে হয়তো খুব বেশি নয়, তবে চরিত্রটি গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নব্বই দশকের স্মৃতিমাখা গল্প, রাজশাহী শহরের আবহ এবং নির্মাতার প্রতি ভালোবাসা– সব মিলিয়ে সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছে অভিনেত্রীর বিশেষ কিছু কারণ।

‘চিরকুট’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে নওশাবা জানান, সিনেমাটির নির্মাতা আকিবের প্রতি স্নেহ থেকেই প্রথমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আকিব তাঁর খুব আদরের ছোট ভাই। নির্মাতার প্রথম সিনেমা বলেও কাজটির প্রতি আলাদা টান অনুভব করেছেন। তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে সিনেমার সময়কাল ও গল্পের পটভূমি।

নওশাবার ভাষ্যে, ‘চিরকুট’ নব্বই দশকের গল্প। ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহী শহর, যে শহরটি তাঁর খুব পছন্দের। সেখানকার মানুষ, খাবারদাবার–সবকিছুর প্রতিই রয়েছে তাঁর আলাদা ভালোলাগা। নির্মাতা যখন তাঁকে জানান, সিনেমাটির গল্প নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। এমনকি চিত্রনাট্য না পড়ে অভিনয়ে সম্মতি দেন।

নওশাবা বলেন, ‘কাজটি খুব গুছিয়ে করেছেন নির্মাতা। তাঁর এই প্রথম সিনেমাকে সমর্থন জানানোও ছিল অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, গল্পের ধরনও তাঁকে আগ্রহী করেছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত মিষ্টি প্রেমের গল্প ‘চিরকুট’। এতে নেই সহিংসতার উপস্থাপন; বরং রয়েছে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি গল্প। নওশাবার প্রত্যাশা, সব বয়সী দর্শক সিনেমাটি একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন।

নব্বই দশকের গল্পে ফিরে যাওয়ার মধ্যে তাই নওশাবার কাছে রয়েছে এক ধরনের নস্টালজিয়া। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাপন বদলেছে, বদলেছে সম্পর্কের প্রকাশভঙ্গিও। সেই পরিবর্তনের ভেতর অতীতের কোনো সময়কে পর্দায় ফিরে দেখা দর্শকের জন্য হয়ে উঠতে পারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে রাজশাহীর মতো একটি শহর যখন গল্পের আবহ নির্মাণে ভূমিকা রাখে, তখন স্থানটির সঙ্গে পরিচিত দর্শকরা নিজেদের স্মৃতির সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে পারেন। ‘চিরকুট’ নিয়ে নওশাবার আগ্রহে এই স্মৃতিময়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এমনটিই জানিয়েছেন নওশাবা।

অভিনেত্রী হিসেবে নওশাবার ক্যারিয়ার বরাবরই বৈচিত্র্যময় চরিত্র ও ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি আগ্রহের পরিচয় বহন করে। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, ওটিটি ও মঞ্চ–বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালে ‘পাপবাজার’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’-এর ‘অন্তরা’ গল্পে অভিনয় তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এ ছাড়া সাদাত হাসান মান্টোর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের পাশাপাশি এবার ‘চিরকুট’-এর মতো পারিবারিক আবহের প্রেমের গল্পে তাঁকে দেখা যাবে।

শুধু অভিনয়ে অবশ্য থেমে নেই নওশাবার ব্যস্ততা। সম্প্রতি ‘ঝামেলা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সিনেমাটি আসন্ন ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’ রয়েছে সম্পাদনার টেবিলে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও আশপাশের এলাকায় এর শুটিং হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।

নির্মাতা হিসেবেও নিজের ভাবনা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চান নওশাবা। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরিচালনা ও অভিনয় প্রসঙ্গে নওশাবার ভাষায়, ‘সোমেশ্বরী’ প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলার চেষ্টা। পরিবেশ দূষণ, নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবন ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আমি নতুন নির্মাতা হিসেবে নিজের ভাবনাকে তুলে ধরেছি। আর গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচয় থাকায় চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। মধ্যনগরের মানুষের সহযোগিতা কাজটিকে আরও সহজ করেছে।

নওশাবা আরও বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে মঞ্চে নির্দেশনা দিচ্ছি, কিন্তু চলচ্চিত্রে এটিই আমার প্রথম পরিচালনা। এটি নির্মিত হয়েছ গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে, যা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন একটি প্রকল্প। এ রকম একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

আন্তর্জাতিক উৎসবের পাশাপাশি দেশের মানুষ, বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের মানুষ যেন সিনেমাটি দেখতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন নওশাবা।

নিয়মিত সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা থাকলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা। এর বাইরে তথ্যচিত্র ‘আগুনী’ নিয়েও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। মঞ্চের জন্য নিজের সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর উদ্যোগে তৈরি করছেন ‘ধরনীর গান’।

এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগীতের আয়োজন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কাজটি এগিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন নওশাবা। এত সব ব্যস্ততার মধ্যেও আপাতত তাঁর অভিনীত ‘চিরকুট’ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। নব্বই দশকের আবহে নির্মিত প্রেমের কাহিনি কতটা ছুঁতে পারে দর্শকের মন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

All Categories