দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে ৩৪ মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পূজা পরিষদের

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলা হয়েছে। ফরিদপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকান ও মন্দিরে হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নওগাঁয় গোয়েন্দা পরিচয়ে ডাকাতির খবরও পাওয়া গেছে।

নেতারা জানান, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কেবল বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিক প্রতিরোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান তারা। তাদের ভাষায়, শুধু পূজার পাঁচ দিন নয়, বছরের ৩৬৫ দিনই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্বৃত্তদের বিচারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রশাসন পূজা আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় ঘাটতি না রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানানো হয়। সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।

সভায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর এবং দুর্গাপূজায় অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটিসহ আট দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

All Categories