নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারির উদ্বেগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমরা সবাই নিরাপত্তহীন হয়ে পড়ছি’। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায়, সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে তৃতীয় দফার লংমার্চের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৈঠকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।’

বৈঠকে নেতারা কুষ্টিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনাও নিন্দা জানান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে নেতারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুলনা অভিমুখে সাত দফা দাবিতে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের নামে যে নাটক করছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার অনেক অপরাধীর বিচার এখনও হয়নি। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের ৭ মাসে দুর্নীতি, দখল ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।’

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। লংমার্চের জন্য পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করছি। যদি কোনও অপশক্তি উসকানি দেয়, তবে আমরা ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দেবো।’

বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

All Categories