জামায়াতের আপত্তি সত্ত্বেও গালিগালাজ রোধে সাইবার সুরক্ষা আইনের পক্ষে তথ্যমন্ত্রী

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীকে বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশোধনীর খসড়ার কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ ও অপপ্রচার রোধে আইনে এ সংক্রান্ত বিধান রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে আলোচনা ছিল না, তবে কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধনীর খসড়াটি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, খসড়ায় গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট নয়। এর ফলে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মত নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহার হতে পারে।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে তাদের উদ্বেগের কথা জানান এবং সংশোধনীর আগে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, গত দুই বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, গালিগালাজ সভ্য বিষয় নয় এবং সমাজও তা সমর্থন করে না। টক শোতেও গালিগালাজ করা হচ্ছে, তাই বিষয়টি সাইবার সুরক্ষা আইনে থাকা উচিত।

বৈঠকে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, কেউ নিপীড়িত হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুই বছরে রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে সাইবার সুরক্ষা আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আরও যুগোপযোগী করার বিষয়েও আলোচনা হয় এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন নাহার অংশ নেন।

All Categories