ঢাকা দক্ষিণের ২৭ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর ‘চরম ঝুঁকি’, ২৫ হাজার কর্মী মাঠে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন মাঠে নেমেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২৫ হাজার সদস্য নিয়ে বড় কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য ১০টি অঞ্চলে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে তাদের বাড়ি ও আশপাশে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হন এমন হাসপাতাল থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএনসিসির কর্মীরা। পরে রোগীর এলাকা অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মী গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করেছে। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ১৫, ১৭, ২০, ২১, ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১৩, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৩২, ৩৬, ৩৮, ৭, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ১৯, ১, ৩, ১০, ১২, ১৪, ২২, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৪২, ৪৩, ৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫৩, ৭০, ৭৪, ৭১, ৭২, ৬৬, ৬৭, ৬৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৬, ১৮, ৮, ২৭, ৩৭, ৪১, ৪৮, ৫৪, ৭৫, ৬৯, ৬৩, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির ৭ হাজার এবং ডিএনসিসির সাড়ে ৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা ও মশক কর্মীর পাশাপাশি বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড, বিডি ক্লিন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রায় ২৫ হাজার সদস্যের একটি বড় কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এই লড়াইয়ে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমে নিজ বাসা থেকে লড়াই শুরু করতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।’ তিনি সতর্ক করেন, ‘নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনও স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

All Categories