আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস: নিরাপদ চলাচলে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সড়ক নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেশাদার চালকদের স্বাস্থ্য, চক্ষু ও মাদক পরীক্ষা, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত করা, সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষ চালকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও ম্যারাথনেরও আয়োজন থাকছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে পাঁচটি স্তম্ভে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তা উন্নয়ন কাজ হবে এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা আছে। বিআরটিএর মাধ্যমে ৬০ হাজার পেশাদার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা দিতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে।
আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া হেলমেট ব্যবহারে স্ট্যান্ডার্ড এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, যানবাহনের ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, পথচারীদের অসচেতনতা, নকশাগত ত্রুটি ও ফুটপাত দখলও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সারা বছর নিয়মিত তদারকি, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরুরি।
চালকদের আইন মেনে গাড়ি চালানো, যাত্রীদের চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা, মোটরসাইকেলে চালক ও আরোহীর হেলমেট পরা এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।