৮৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দুই চার্জশিট
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রশান্ত কুমার হালদার, যিনি পি কে হালদার নামে পরিচিত, সহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) কমিশনের সভায় চার্জশিট দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আকতারুল ইসলাম জানান, প্রথম মামলাটি নওশেরুল ইসলামের মালিকানাধীন নেচার এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। এখানে ৪৫ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই মামলায় ২১ জন আসামি ছিল, তবে তদন্তে নতুন করে সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, ফলে মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে নেচার এন্টারপ্রাইজকে নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নেচার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশেরুল ইসলাম, পি কে হালদার, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হক গাজীসহ ২৮ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্য একটি মামলায় পি কে হালদার এবং রহমান কেমিক্যাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের সূত্র জানায়, পি কে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকাকালে ভুয়া ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০২২ সালের ১১ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন পি কে হালদার। দেশে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা চলছে। ২০২৩ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তাকে ২২ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।