যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্মস) শুরু হতে আর মাত্র চার সপ্তাহ বাকি। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালের বাকি অংশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতি দুই বছর পর পর মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচনের জন্য জনগণ ভোট দেন। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। মার্কিন কংগ্রেসের মূল কাজ হলো সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য বাজেট ও ফেডারেল আইন প্রণয়ন ও পাস করা।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মক্ষমতা নিয়ে মার্কিন জনগণের সন্তুষ্টির মাত্রাও এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।

একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন ভোটাররা।

বর্তমানে কংগ্রেসের দুটি কক্ষই রিপাবলিকানদের দখলে, তবে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব সামান্য। নিম্নকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা ২১৮টি (একটি স্বতন্ত্রসহ) এবং সিনেটে ৫৩টি।

যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পায়, তবে তারা নিজস্ব আইন প্রস্তাব করার ক্ষমতা পাবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জন্য নতুন আইন পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম তৈরি কিংবা অভিবাসন সংস্থার (আইসিই) বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে মেয়াদের বাকি সময় ট্রাম্প তার পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে ভোট না দিয়ে তাদের এক ধরনের ‘শাস্তি’ দেওয়ার প্রবণতা দেখান। মতামত জরিপ বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট সিলভার বুলেট-এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৫০ শতাংশের বেশি থাকলেও অক্টোবরের শুরুতে তা কমে ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ৬১ শতাংশ মানুষ তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রধান দুটি দলই নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজেদের সুবিধাজনক নির্বাচনি মানচিত্র (ইলেক্টোরাল ম্যাপ) পুনর্নির্ধারণ করায় ফল পূর্বাভাস করা কঠিন। সিবিএস নিউজ সিনেটের ৯টি এবং হাউসের ৪২টি আসনকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই নির্বাচনে ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও তিনি ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকে তার কাজের ওপর সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী ট্রাম্প তৃতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না, তাই এই নির্বাচনের পরপরই ২০২৬ সাল পেরিয়ে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে।

All Categories