যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি ও দাম কমছে

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৮ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে, তবে গড়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটিইএক্সএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৫৩৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আগস্ট মাসে চিত্র কিছুটা ভিন্ন, একক মাস হিসেবে গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে প্রধান এশীয় সরবরাহকারীদের মধ্যে চীন ও ভারতের পোশাক আমদানিতে বড় পতন দেখা গেছে। ওটিইএক্সএ-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ভারতের ক্ষেত্রে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে পোশাক আমদানি বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাংলাদেশের আমদানি মূল্য ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে, যা চীন ও ভারতের তুলনায় কম।

জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির পরিমাণ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে আমদানির পরিমাণ কমেছে দশমিক ১৮ শতাংশ, চীন থেকে ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ভারত থেকে ২৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এছাড়া, পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যেও পরিবর্তন এসেছে। ওটিইএক্সএ-এর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চাহিদা ও দামের পাশাপাশি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।"

তিনি আরও বলেন, "সামগ্রিক আমদানি কমে যাওয়ার মধ্যে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ১১ শতাংশের বেশি বেড়ানো ইতিবাচক। তবে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।"

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানির প্রবণতা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

ওটিইএক্সএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমেছে এবং প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য বাজার ধরে রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

All Categories