সুস্থ থাকলেও হৃদরোগের ঝুঁকি বুঝতে যে পরীক্ষাগুলো জরুরি
হার্ট অ্যাটাক কখন কাকে আঘাত করবে, তা সবসময় বয়স দেখে বোঝা যায় না। অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারের কারও অল্প বয়সে হৃদরোগ হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি দীর্ঘদিন নীরবে বাড়তে থাকে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোন পরীক্ষা কত ঘন ঘন করতে হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করা উচিত।
ঝুঁকি বোঝার জন্য লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল, এইচডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়। এলডিএল বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকে, তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা দরকার। একবারের রিডিং দেখে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিসও হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। বয়স, ওজন ও পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। এইচবিএ১সি পরীক্ষায় গত কয়েক মাসের গড় শর্করার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস থাকলে খাবার, শরীরচর্চা, ওজন ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
বুকব্যথা, বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন বা শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসক ইসিজি করার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ও ছন্দের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যায়। কম ঝুঁকির উপসর্গহীন ব্যক্তির নিয়মিত ইসিজি প্রয়োজন কি না, তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, হঠাৎ দুর্বলতা, বমিভাব কিংবা ব্যথা হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।