সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার অনুরোধে সাড়া নেই, চাইলো ইসরায়েলের সাহায্য

সৌদি আরব হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সামরিক সহায়তার জন্য মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়ে ঘুরছে। রিয়াদ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দেশই এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তুরস্ক ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও সৌদির পাশে থাকার কথা বললেও হুতিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সাহায্য চেয়েছে। এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তিনি এ অনুরোধ জানান। সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি নেতার অন্তত দুবার ফোনে কথা হয়েছে, তবে হুতিদের ওপর হামলার বিষয়ে সম্মতি দেননি। ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে।

সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর ও যুক্তরাজ্যের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেছেন, ইয়েমেনে পরিস্থিতি ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ’ করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। হুতিরা জানিয়েছে, তারা মার্কিন নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা রাখে না এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হিসেবে তুরস্ক ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা চুক্তির আওতায় থাকা তুরস্ক ও পাকিস্তান কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আঞ্চলিক এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে রিয়াদকে সম্ভাব্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েল হুতিদের সামরিক অবস্থান ও অস্ত্র অবকাঠামো সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারে।

গত এক সপ্তাহে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যার মধ্যে তেল পরিবহন পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় ড্রোন হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব পবিত্র স্থানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

All Categories