ব্রাজিলের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত জয়, চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় ফিরলেন বামপন্থি নেতা লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার দেশটির নির্বাচনী আদালত তার জয়ের ঘোষণা দিয়েছে। জনমত জরিপের পূর্বাভাস ও বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোটের হাওয়ার বিপরীতে এই ফল লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থিদের জয়যাত্রায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের লড়াইয়ে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে। প্রথম দফায় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিনি পিছিয়ে পড়েন। পিতার চরম ডানপন্থি রাজনৈতিক ধারা ফের সক্রিয় করার স্বপ্ন তাই পূরণ হয়নি।
দুর্নীতির কেলেঙ্কারি আর জিনিসপত্রের দামের চাপে একসময় লুলা ও তার ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ বেড়েছিল। তখন তার ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব মনে হয়েছিল। ৮০ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি ছিলেন; মামলা বাতিল হলে ২০২২ সালে তিনি জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট হন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্তও তিনি দেশ চালিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি তার পক্ষে কাজ করেছে। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতোর ভাষ্য, অনিশ্চিত নতুনত্বের চেয়ে ভোটাররা চেনা নেতৃত্বকেই বেছে নিয়েছেন। প্রচারণায় লুলা দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর রেকর্ড তুলে ধরেন এবং বলেন, তার আগের মেয়াদে বেকারত্ব, নিরক্ষরতা ও বন উজাড়ের হার সর্বনিম্নে নেমেছিল।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লুলা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সরব। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো আমোরিমের মতে, লাতিন আমেরিকায় ভারসাম্য রক্ষায় লুলার ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি কৌশলগত অপ্রাপ্তি।
তবে নতুন মেয়াদ সহজ হবে না। ব্রাজিলে নবনির্বাচিত কংগ্রেস দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্ষণশীল; বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ও মিত্ররা নিম্নকক্ষে ২৮০টির বেশি এবং সিনেটে প্রায় ৫০টি আসনে প্রভাব রাখতে পারে। অর্থনীতিতেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে: আগামী বছর প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস, সুদের হার চড়া এবং সরকারি ঋণ জিডিপির ৮২ শতাংশের বেশি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।