সিলেটে মাজার-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩০
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মাজার ও মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাসেল (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
শুক্রবার (২ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকের বাজার এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত রাসেল আহমদ ওই এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। তার মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২২ আগস্ট একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল, সেসময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলামের শেখপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ২২ আগস্ট একই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
আজ জুমার নামাজের পর ফের দুই পক্ষের লোকজন মসজিদে উপস্থিত হলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে রাসেল নামের এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল মোগলাবাজার থানার আওতাধীন। সেখানে মোগলাবাজার থানার পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সুরমা থানারও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
মোগলাবাজার থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুমার নামাজের পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এলাকার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন থেকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান ফজলু মিয়া। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট করেন। ১৬ আগস্ট শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।