সীতাকুণ্ডে আধিপত্যের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গুলিতে নিহত হয়েছেন তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবদল নেতা। এ ঘটনায় তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরেক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ডের অলিনগরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তারেক হোসেনের মা জমিলা খাতুন জানান, ‘সাগরে বালু উত্তোলনের কাজে যাওয়ার জন্য রাতে ড্রাগন ফল খেয়ে বের হয় তারেক। আধাঘণ্টা পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়, গ্রামের ডাকাত ঢুকবে, ডাকাত ঢুকবে। সবাই সতর্ক থাকেন। এ ঘোষণার পর তাকে (তারেক হোসেন বাপ্পি) ধরে পিটিয়েছে। পরে গুলি করে খুন করেছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে গুলি করে মারার পর আবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ডাকাত মারা হয়েছে।’
নিহতের বোন অভিযোগ করেন, ‘আরিফ, ফখরুলরা ৭-৮টি মোটরসাইকেলে এসে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে খুন করেছে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনী পদক্ষেপ নেবেন না। ‘মাইরের বদলা মাইর, গুলির বদলা গুলি’ করে প্রতিউত্তর দিতে হবে।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারের জেরে দূর্বৃত্তদের গুলিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েক ব্যক্তি যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে বাপ্পি ও শাওনকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। এ সময় তারা নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
নিহত তারেক হোসেন বাপ্পি সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আলী আহমদ (মৃত)। আহত তাফসির আলম শাওন একই থানার বাড়বকুণ্ডের অলিনগর এলাকার ইউসুফের ছেলে।
নিহতের চাচাতো ভাই আবদুর নুর জানান, বাড়বকুণ্ডে সাগরে ড্রেজার ও বোট দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করে তারেক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে এসে এ কাজ করেন। হত্যাকারীরা সেখানে কাজ করতে পারবে না এমন হুমকি দিয়েছিল। শুক্রবার রাতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। শাওন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে জাফর ও এমরানরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই যুবকের হতাহতের খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, সীতাকুণ্ডে গুলিবিদ্ধ দুজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর গুলিবিদ্ধ আহত তাফসির আলম শাওনকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।