কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলনে ১৭ জনের মৃত্যু, নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উত্তর কোটাঞ্চলের বিখ্যাত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এক ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃষ্টির মধ্যে অতিরিক্ত ভিড় এবং মণ্ডপের সংকীর্ণ প্রস্থান পথের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে চিত্তরঞ্জন এভিনিউয়ের কাছে অবস্থিত ৯১ বছরের পুরোনো এই পূজামণ্ডপে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি ব্যক্তির পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছুটির দিন এবং বৃষ্টির কারণে পূজামণ্ডপে হঠাৎ উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। আয়োজকদের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সংকীর্ণ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় অনেকে নিচে পড়ে পদদলিত হন।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদবত মুখোপাধ্যায় এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ছুটে যান এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সহায়তার জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০-৩২৫-৫৬৭৮ এবং ০৩৩-২২১৪১৩১০) চালু করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।