ইসরায়েলের নির্দেশে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনে অর্থায়ন বা সহায়তা প্রদানকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কারণে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে আগামী বৃহস্পতিবার এই ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গুঞ্জন রয়েছে, এর জবাবে লন্ডন থেকে ২৭ জন ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য।

তেল আবিবে যুক্তরাজ্যের মূল দূতাবাস খোলা থাকলেও পূর্ব জেরুজালেমের এই কনস্যুলেটটি আলাদাভাবে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করত। কনস্যুলেট বন্ধ হয়ে গেলে এসব সেবা ফিলিস্তিনিদের জন্য হারিয়ে যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আমজাদ ইরাকি সতর্ক করে বলেন, কনস্যুলেট বন্ধের আসল খেসারত ফিলিস্তিনিদেরই দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সরকারের প্রতিক্রিয়া মূলত ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা, যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্কের মূল জায়গায় আঘাত করা নয়।

এদিকে, পূর্বে নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও নরওয়ের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডও একইভাবে সীমিত করেছিল ইসরায়েল।

১৯৬৩ সালে জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় যুক্তরাজ্যের সরকার এই জমিটি কেনে এবং ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর ইসরায়েল এলাকাটির দখল নেওয়ার পর এটি চালু হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, এই কনস্যুলেট তেল আবিব বা আম্মানের দূতাবাসের অধীন নয়, বরং সরাসরি ব্রিটিশ ফরেন অফিসের অধীনে পরিচালিত হবে।

শেখ জাররা এলাকার এই ব্রিটিশ মিশনটি ইতিহাস জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬৯ সালে এখানে বোমা হামলা এবং ২০১৭ সালে বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষে ফিলিস্তিনিরা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে যুক্তরাজ্যকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল।

কনস্যুলেটটি বন্ধের খবরে শেখ জাররা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক কারিগর ও স্থানীয় বাসিন্দা আবু আবদো আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সমস্যার মূল তো ছিল এই ব্রিটিশরাই, তাই নয় কি? ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় স্বাক্ষর তো তারাই করেছিল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আমরা কেবল গবেষণা আর মুখের কথাই দেখেছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি।

All Categories