ফিনল্যান্ডের ‘সান্তা ক্লজ এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ব্যক্তিগত বাথরুমসহ কেবিনের ভাড়া কত?

ফিনল্যান্ডের ‘সান্তা ক্লজ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কেবিনে রয়েছে বাঙ্ক বেড, বসার জন্য ছোট্ট চেয়ার, লাগেজ রাখার জায়গা, এবং ব্যক্তিগত বাথরুম ও শাওয়ার। দোতলা এই রাতের ট্রেনটি ইউরোপ ভ্রমণে নতুন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন এমন যাত্রীদের জন্য আকর্ষণীয়।

এই ট্রেনটি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি ও তুর্কু থেকে উত্তরাঞ্চলীয় ল্যাপল্যান্ডের রোভানিয়েমি পর্যন্ত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। রাতের ট্রেনে যাত্রা করে ঘুমিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে। যাত্রীরা সাধারণ আসনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্লিপার কেবিনও বেছে নিতে পারেন।

সম্প্রতি এক যাত্রীর কেবিনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কেবিনে রয়েছে বাঙ্ক বেড, একটি চেয়ার ও লাগেজ রাখার জায়গা। কেবিনের ভেতরে আলাদা দরজার আড়ালে রয়েছে ব্যক্তিগত বাথরুম, যেখানে শাওয়ার ও টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

যদিও কেবিনের জায়গা সীমিত, এক যাত্রী জানান, বাঙ্ক বেডের নিচে বড় লাগেজ রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। ফলে অতিরিক্ত বড় ব্যাগটি আলাদাভাবে জমা দিতে হয়েছে। তাই ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে লাগেজের আকার ও পরিবহনের নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই জানানো উচিত।

ফিনল্যান্ডের রেল পরিষেবা সংস্থা ভিআর-এর মাধ্যমে ট্রেনের আসন ও স্লিপার কেবিন বুক করা যায়। রেলস্টেশন থেকেও সংরক্ষণ করা সম্ভব, তবে স্টেশনে গিয়ে সংরক্ষণ করলে এক ইউরো পরিষেবা মাশুল দিতে হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪০ টাকা।

ইন্টাররেলের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসন সংরক্ষণের খরচ ৫ থেকে ৩২.৭০ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। দুজনের জন্য সাধারণ স্লিপার কেবিনের সংরক্ষণমূল্য ৩৯ থেকে ১৫০ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ২১ হাজার টাকা। ব্যক্তিগত বাথরুম-সহ ডিলাক্স ডাবল স্লিপার কেবিনের সংরক্ষণমূল্য ৩৯ থেকে ১৬০ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ থেকে ২২ হাজার ৪০০ টাকা।

মনে রাখতে হবে, এগুলি সংরক্ষণমূল্যের পরিসর। সম্পূর্ণ যাত্রার টিকিটের ভাড়া এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ভিআর-এর নিয়ম অনুযায়ী, স্লিপার কেবিন সাধারণত পুরো কেবিন হিসেবেই বুক করতে হয়। কেবিন সংরক্ষণের মাশুল পূর্ণ ভাড়ার টিকিটের মূল্যের ৫০ শতাংশ হতে পারে। যাত্রাপথ, তারিখ ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী চূড়ান্ত খরচ বদলায়। তাই বুকিংয়ের আগে নির্দিষ্ট তারিখের মোট ভাড়া যাচাই করা জরুরি।

সান্তা ক্লজ এক্সপ্রেসে খাবারের জন্য রয়েছে রেস্তোরাঁ-কার। সেখানে স্যামন মাছের স্যুপ, রাই ব্রেড, টমেটো পেস্টো পাস্তা, মিটবলসের সঙ্গে ম্যাশড পটেটো, চিকেন পেস্টো পাস্তা, পাস্তা কার্বোনারা, চিকেন সিজার সালাদ ও ক্লাব স্যান্ডউইচের মতো খাবার পাওয়া যায়। নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও আলাদা মেনু রয়েছে।

সকালে কেবিনে নাশতা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। পানীয়ের মধ্যে রয়েছে গরম জল, সাধারণ পানীয় জল ও কোমল পানীয়। যাত্রাপথে মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়ার জন্য পাওয়ার সকেট এবং ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ফিনল্যান্ডে ঘুরতে গেলে সান্তা ক্লজ এক্সপ্রেস হতে পারে ভ্রমণের একটি বিশেষ আকর্ষণ। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই ট্রেনে ওঠা সম্ভব নয়। প্রথমে ফিনল্যান্ডে পৌঁছে হেলসিঙ্কি বা তুর্কুর মতো শহর থেকে যাত্রা পরিকল্পনা করতে হবে। বিমানভাড়া, ভিসা, হোটেল, ট্রেনের পূর্ণ টিকিট ও খাবারের খরচ মিলিয়ে মোট বাজেট তৈরি করাও জরুরি। ইউরোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার পরিবর্তিত হওয়ায় উপরোক্ত অঙ্কগুলি আনুমানিক হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। ভ্রমণের আগে ভিআর-এর সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ভাড়া, কেবিনের সুবিধা ও বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করে নেওয়া ভালো।

All Categories