ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি: জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার সংক্রমণ মোকাবিলায় পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রতি ৬০ জনের মধ্যে একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত, যেখানে পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন।

বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবহার, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, একই সুচ ব্যবহার এবং ‘ব্লুটুথিং’ নামে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ মাদক গ্রহণের পদ্ধতি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সরকার নিরাপদ সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালু করবে।

জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ৯ হাজার ১০০ জনের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের বিষয়ে জানতেন। আর অ্যান্টিরেট্রো-ভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ। বিশ্বে এই চিকিৎসা নেওয়ার গড় হার ৭৮ শতাংশ।

জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফিজির পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

ফিজির জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা বলেছেন, এইচআইভি পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

All Categories