বোয়িংনির্ভরতা কাটিয়ে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহরে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার একটি পদক্ষেপ। বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ চুক্তিতে সই করেন। ১০টি উড়োজাহাজের মোট আর্থিক মূল্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তির আওতায় চারটি দীর্ঘ পাল্লার ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি মাঝারি ও আঞ্চলিক রুটের ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে বিমান। নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে থাকবে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি সক্রিয় উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি এবং বাকি পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে, চলতি বছরেই বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি করেছে বিমান। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ১১টি বোয়িং কেনার সমঝোতা হয়। সব মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা ৩৫টি (১৯টি ওয়াইড-বডি ও ১৬টি ন্যারো-বডি) হবে। পুরোনো উড়োজাহাজগুলো অবসরে গেলেও ভবিষ্যতে বিমানের বহর অর্ধশত ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩৩ সালে সরবরাহ শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে পরিচালন সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন বহর সামলাতে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে এ চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ এয়ারবাসের প্রতিনিধি জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার জানান, তারা বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান এভিয়েশন খাতের অংশীদার হতে পেরে আনন্দিত। নতুন মডেলের উড়োজাহাজগুলো বিমানের যাত্রীসেবার মান ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

এ চুক্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি মন্তব্য করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির কাতারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, এই চুক্তির ফলে দেশে বিশ্বমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

All Categories