আতঙ্কের নগরী গাজীপুর: সাত মাসে ১০৩ খুন
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল দুর্বৃত্ত দা ও চাপাতি দিয়ে এ হামলা চালায়। এর আগের দিন বুধবার বিকেলে নগরীর সাহাপাড়া এলাকায় আরেক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে টেনে হিঁচড়ে, পিটিয়ে ও ইট দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ দুই ঘটনার রেশ না কাটতেই গতকাল শুক্রবার সকালে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় সড়কের পাশে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় এক যুবকের খণ্ডিত মরদেহ।
পুলিশের হিসাবে, গত সাত মাসে গাজীপুর মহানগর ও জেলায় ১০৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে—এর মধ্যে জেলা পুলিশের পাঁচ থানা এলাকায় ৫৯টি এবং মহানগর পুলিশের আট থানা এলাকায় ৩৫টি। খুনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জমি-জমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মাদক, নারী-সংক্রান্ত ঘটনা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও পূর্বশত্রুতা।
গত শনিবার রাতে গাজীপুরে শ্বাসরোধ ও পিটিয়ে স্ত্রী মারুফা আক্তারকে (৪৫) হত্যা করে লাশ ঘরে রেখে বাইরে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী মিজানুর রহমান। এর আগে বুধবার রাতে শ্রীপুরে স্বামী নূরুল ইসলামের হাতে খুন হন সুইটি আক্তার। জুনের শেষ দিকে কোনাবাড়ীতে চোর সন্দেহে গার্মেন্টসের ভেতরে পিটিয়ে হত্যা করা হয় হৃদয় মিয়াকে (১৯)।
১১ জুলাই রাতে টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর হামলায় খুন হন কলেজ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ১৭ মে টঙ্গী ফ্লাইওভারে খুন হন রঞ্জু (৩০) নামে এক যুবক। মে মাসের শেষে কোনাবাড়ীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান ৯০ বছরের নাসির পালোয়ান।
১৮ জুলাই কাপাসিয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণপিটুনিতে খুন করা হয় নূরুল ইসলামকে। এর আগে ২৭ জুন কোনাবাড়ীতে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মেকানিক হৃদয়কে।
জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘বেশির ভাগ হত্যাই জমিজমা ও পারিবারিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে। গত ১৭ বছরে দেশের একটি প্রজন্ম নষ্ট হয়ে গেছে। মূল্যবোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মমিনুল ইসলাম মনে করেন, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অপরাধ দমন ব্যাহত হচ্ছে।