আ.লীগের মিছিল থেকে বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলি ও ভাঙচুরের অভিযোগ
খুলনায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে বিএনপির এক নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে নগরীর খালিশপুরে জুমার নামাজ চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা চালান, যা স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে ব্যাহত হয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া মওলা বাড়ির সামনে ইসলামিয়া রোড এবং দুপুরে খালিশপুর এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় মিছিলকারীরা তার বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল আলম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসায় শুয়ে ছিলেন। বাইরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে বারান্দায় গিয়ে দেখতে চাইলে মিছিল থেকে এক ব্যক্তি তাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর বাসার ভেতরে ঢোকার সময় তার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে জুমার নামাজ চলাকালে আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের আনসার উদ্দিন সড়কের মুখে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মিছিলটি খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস স্কুলের সামনে থেকে শুরু হয়ে আনসার উদ্দিন সড়কের মুখ পর্যন্ত যায়। এতে নেতৃত্ব দেন খালিশপুর থানা কৃষক লীগের সভাপতি রতন শেখ কন্ট্রাক্টর।
মিছিলে রাজু, এনামুল, জিকু, বাশার, মুন্না, শোভন, রায়হান সরদার, আকাশ সরদার ও আল আমিন মল্লিকসহ কয়েকজন অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, এনামুলের বাবার নাম কামাল এবং তার বাড়ি কাজীপাড়া-মুজগুনী এলাকায়। বাশার ও শোভনের বাড়ি পেটকা বাজার এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলের সময় পাশের একটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা চলছিল। এ সময় মসজিদ থেকে কয়েকজন মুসল্লি বের হয়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সময়ে খোকনের চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীও সেখানে আসেন।
পরে নামাজরত স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া করেন। এতে মিছিলকারীরা মিছিল শেষ না করেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তারা মিছিল করতে পারেনি। মিছিলকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।