২০২৭ সালে সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে সরকার
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে (ইআরপিএলসি) পরিশোধনের জন্য ২০২৭ সালে সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে মোট ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে সৌদি আরামকো ও আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) থেকে এই তেল আনবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এই আমদানি হবে। অর্থায়নের উৎস হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থার (আইটিএফসি) ঋণের কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বিপিসি দীর্ঘদিন ধরেই জিটুজি চুক্তির আওতায় এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রুড অয়েল এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করছে। রিফাইনারির পুরোনো প্ল্যান্টে ‘অ্যারাবিয়ান লাইট’ ও ‘মারবান’ ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ তুলনামূলক বেশি উপযোগী ও লাভজনক। চাহিদা অনুযায়ী অন্য কোনো উৎস থেকে এসব তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় জনস্বার্থে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর ৬৮(১) ধারা ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৭(২) অনুযায়ী ডিপিএমে আমদানির প্রস্তাব করা হয়।
একই বৈঠকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জিটুজি প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির আরেকটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে পরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রস্তুত ও জমার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত জ্বালানি তেল আমদানি করা সম্ভব হবে।