রাজধানী ছেড়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ
সাধারণত ঈদের ছুটি ছাড়া ঢাকার রাজপথ ফাঁকা থাকার নজির খুব একটা নেই। এবার সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঈদের ছুটিও যেন হার মেনেছে। টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে রাজধানী ছেড়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। ঈদে যান চলাচলে বিধিনিষেধ না থাকলেও সংসদের ভোট ঘিরে রয়েছে নানা নিষেধাজ্ঞা। ফলে কেউ চাইলেই রাজপথে সাবলীল চলাচল করতে পারছেন না। মেট্রোরেল চললেও সেখানে যাত্রী সমাগম কম। তবে গতকাল বুধবারও ট্রেন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি ছুটি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এ সময় দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ছুটি পেয়ে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। ফলে গত কয়েক দিন বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
এদিকে রাজপথে গণপরিবহন না থাকায় অনেককে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দূরপাল্লার কিছু পরিবহন চললেও সিটি সার্ভিসের কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলেছে খুব কম। শেয়ার রাইডগুলোও বন্ধ। ফলে যারা শহরের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছেন, তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এই সুযোগে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করেছেন।
কাফরুলের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন বলেন, আগারগাঁও পিএসসির সামনে প্রতিদিন সকালে বাজার বসে। বুধবার গিয়ে দেখি দুয়েকটি দোকান ছাড়া তেমন কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা নেই। এত ফাঁকা শহর সম্প্রতি দেখেছি বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, টানা ছুটির কারণে অনেকেই ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। এ ছাড়া ভোট তো আছেই।
গণমাধ্যমকর্মী তাসনিম মহসিন জানান, তিনি বাইকে চলাফেরা করেন। অন্য সময় যে পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা লাগে, গতকাল সেটা লেগেছে ১৫ মিনিটের মতো। ঈদের ছুটির সময়ও এত ফাঁকা রাস্তা তিনি দেখেননি।
গতকাল রাজধানীর কোথাও যানজট দেখা যায়নি। ট্রাফিক সিগন্যালগুলো ছিল ফাঁকা। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও কোনো তৎপরতা ছিল না। মাঝে মাঝে দুয়েকটি অটোরিকশা ও জরুরি সেবার গাড়ি চলতে দেখা গেছে। তবে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের উৎসাহ যেমন আছে, আতঙ্কও আছে। এ জন্য অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা ভোট দিতে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ জন্য রাস্তায় যানবাহনের চাপ নেই।