মার্কিন অবরোধ ভেঙে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল চীনা জাহাজ
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত চীনা সংস্থা সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং এই তেল-রাসায়নিকবাহী জাহাজটির মালিক। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি সোমবার গভীর রাতে কৌশলগত এই জলপথের নিকটবর্তী এলাকায় চক্কর দেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে প্রণালিটি অতিক্রম করে।
জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং বর্তমানে চীনে তার গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে।ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্র থেকে ছেড়ে আসা আরেকটি তেলবাহী জাহাজ সোমবার প্রণালিটিতে দেখা গেছে। তবে জাহাজটি নিজের অবস্থান লুকাতে মিথ্যা তথ্য পাঠাচ্ছিল, যেন মনে হয় এটি সৌদি আরব থেকে এসেছে। এই কাজটি করা হয় অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ব্যবহার করে, যা সাধারণত জাহাজের অবস্থান জানাতে ব্যবহৃত হয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক জাহাজই এভাবে ভুয়া তথ্য পাঠাচ্ছে বা একেবারে সংকেত বন্ধ করে দিচ্ছে, যাতে প্রণালি দিয়ে তাদের চলাচল গোপন রাখা যায়।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই ঘোষণা দিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হরমুজ প্রণালির অবরোধ করা হয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী সামুদ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইরানের অর্থনীতির আনুমানিক ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানে আসা-যাওয়ার অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে।’
এই ঘোষণাটি এমন একসময়ে এসেছে, যখন একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান ছাড়ার চেষ্টাকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে আটক করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জাহাজগুলো ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে যাত্রা করেছিল এবং যুদ্ধজাহাজটি রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।