পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, কোনদিকে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত এবং বাংলাদেশের সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ—এই দুই পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরে ভারতেরউত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য এইউত্তেজনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি ওই অঞ্চলকে 'চীনা অর্থনীতির সম্প্রসারণ' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশকে সমুদ্রের 'একমাত্র অভিভাবক' বলেন। ভারতের রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে ভারতীয় রুটে এক সপ্তাহেপণ্য ইউরোপে পৌঁছাত, এখন তা সমুদ্রপথেপাঠাতে আট সপ্তাহ পর্যন্তসময় লাগছে, ফলে সময় ওখরচ—দু’টোই বাড়ছে।
এদিকে, ভারতের কৌশলগত মহলে শিলিগুড়ি করিডোরনিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাত্র ২০ কিলোমিটার প্রশস্তএই করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে এবং তা তিব্বতের চুম্বি উপত্যকার কাছেই। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের অভিজ্ঞতামাথায় রেখে অনেকেই আশঙ্কা করছেন—ভবিষ্যতে সংঘাত হলে এই করিডোরচীনের প্রথম লক্ষ্য হতে পারে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, শেখ হাসিনাভারতে অবস্থান করছেন এবং নতুন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেছে। দিল্লি এখনো এ বিষয়েআনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে, প্রশ্ন উঠছে: বাংলাদেশ কি চীনের দিকে ঝুঁকছে? আর ভারত—সত্যিই কি শুধু চিন্তায়?