ঘুমের জন্য কার্যকর ৩টি আধুনিক যন্ত্র
সারাদিনের ব্যস্ততার পর বিছানায় গেলেও অনেকের ঘুম আসতে দেরি হয়। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাসের কারণে রাতের ঘুম ব্যাহত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সৌন্দর্যে প্রভাব পড়তে পারে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। ঘুম না এলে অনেকে মোবাইল হাতে নিয়ে সময় কাটান, যা ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ঘুমের পরিবেশকে আরামদায়ক করতে বাজারে এসেছে কিছু প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র। মনে রাখতে হবে, এগুলো অনিদ্রার চিকিৎসা নয়, তবে কিছু মানুষের জন্য আরাম ও ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।
ঘুমানোর সময় পাশের মানুষকে বিরক্ত না করে শান্ত শব্দ বা সংগীত শুনতে চাইলে বালিশের নিচে ব্যবহারের জন্য ছোট শব্দযন্ত্র কাজে লাগতে পারে। কিছু যন্ত্রে কম্পনের মাধ্যমে শব্দ পৌঁছানোর প্রযুক্তি রয়েছে। বৃষ্টির শব্দ, প্রকৃতির আওয়াজ কিংবা ধীরগতির সংগীত শুনে মনকে শান্ত করার চেষ্টা করা যায়। অনেক যন্ত্রে নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
ঘুমানোর সময় কানে আলাদা যন্ত্র ব্যবহার করতে অস্বস্তি হলে নরম কাপড়ের তৈরি শব্দযন্ত্রের ফিতা ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ভেতরে পাতলা শব্দযন্ত্র থাকে এবং এটি মুঠোফোনের সঙ্গে সংযোগ করে বিভিন্ন ধরনের শান্ত শব্দ শোনা যায়। মাথায় পরে শোয়া যায় বলে ঘুমের সময় তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। তবে শোয়ার আগে মুঠোফোন ব্যবহার দীর্ঘায়িত না করাই ভালো।
সারাদিন কম্পিউটার বা মুঠোফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে চোখ ক্লান্ত হয়ে গেলে উষ্ণতা ও হালকা চাপ দেওয়ার সুবিধাযুক্ত চোখের মুখোশ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু যন্ত্রে চোখের চারপাশে হালকা উষ্ণতা, চাপ বা কম্পনের ব্যবস্থা থাকে। এতে চোখ ও মুখের আশপাশের পেশি কিছুটা শিথিল অনুভূত হতে পারে এবং শোয়ার আগে আরাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হলে শুধু যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, রাতে মুঠোফোন ও অন্যান্য পর্দার ব্যবহার কমানো এবং ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখা এসব অভ্যাসও ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।