এনবিআরে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে শাটডাউন: অচল বন্দর, কাস্টমস, আইসিডি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের ডাকে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে শাটডাউন কর্মসূচি। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরগুলোর কনটেইনার ডেলিভারি, মূল্যায়ন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম। ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আদায় ও বাণিজ্যিক প্রবাহ।
রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি দেখা যায়, যদিও আগের দিনের তুলনায় তা কম। পরিচয়পত্র দেখিয়ে অনেক কর্মকর্তা ভবনে প্রবেশ করছেন।
এর আগে, শনিবার দেশের সব শুল্ক ও কর কার্যালয়ে দিনভর শাটডাউন পালন করা হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দর, ঢাকা কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টম হাউসে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাজস্ব আদায় কার্যত স্থবির।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া না আসায় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে।
অচলাবস্থার কারণে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার, এফবিসিসিআই, বিসিআই, বিজিএপিএমইএ, লেদার অ্যাসোসিয়েশনসহ অন্তত ১২টি ব্যবসায়ী সংগঠন একযোগে এ অচলাবস্থা নিরসনের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘শীতকালীন রপ্তানি অর্ডার এখন ঝুঁকিতে। অনেক বায়ার বিকল্প বাজারে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এই অচলাবস্থা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘এনবিআরের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন, এটা আমরা বুঝি। কিন্তু এভাবে পুরো অর্থনীতিকে জিম্মি করা সমাধান নয়।’
ব্যবসায়ীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করায় ক্ষোভ জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ। তাদের বক্তব্য, এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের অপসারণ ছাড়া ‘বাস্তবসম্মত, টেকসই ও প্রকৃত’ সংস্কার সম্ভব নয়। পরিষদ বলছে, প্রশাসনিক অনিয়ম, কর্মকর্তাদের হুমকি ও সংস্কারবিরোধী কার্যকলাপে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এ দাবি।
পরিস্থিতি নিরসনে আগামী মঙ্গলবার সরকারের প্রধান অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহও জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।
গত ১২ মে সরকারের এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ—রাজস্ব নীতিনির্ধারণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ—গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই এ আন্দোলন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় কর, ভ্যাট ও শুল্ক কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।