মাছের যোগান কম, সবজিতেও স্বস্তি নেই বাজারে

সাগর ও নদ–নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাজধানীর বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে, ক্রেতাদের কাঁধে পড়েছে বাড়তি চাপ। অন্যদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন শাকসবজি, কিন্তু দাম এখনও কমেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আরও ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে সবজির দাম কমে আসবে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে মাছ, মাংস ও সবজির বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। সীমিত আয়ের ক্রেতারা বলছেন, টান পড়ে গেছে মাসের বাজেটে।

আগামী রোববার পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাগর ও নদ–নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না জেলেরা। ফলে বাজারে দেশি মাছের যোগান নেমেছে তলানিতে। এতে চাহিদা বেড়েছে চাষের মাছের, সুযোগ নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

বাজারে প্রতিকেজি রুই–কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, আইড় ও বোয়াল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, আর ভাল মানের চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বোয়াল ৮০০–১,০০০ টাকা, কোরাল ৮৫০–৯০০ টাকা, চাষের রুই ৩০০–৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০–২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০–৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা ও শিং ৪০০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও তেমন স্বস্তি আসেনি। যদিও গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমেছে, তবু নাগালের বাইরে রয়ে গেছে বেশিরভাগ সবজি।

বাজারে বেগুন, শসা, শিম ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, তাল বেগুন ১৫০ টাকা, আর কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। পেপে ছাড়া ৬০–৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিক্রেতারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর ২০ দিনের মধ্যে নতুন সবজি বেশি পরিমাণে আসবে, তখন দাম কমবে।

গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৬০–৮০০ টাকায়, খাসি ১,২০০ টাকায় ও ছাগল ১,১০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৭৫–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০–৩৩০ টাকায়।

ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, তবে তেল, চিনি ও লবণের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ভোক্তারা বলছেন, সবজির বাজারে একটু স্বস্তি এলেও মাছ ও মাংসের দাম কমছে না। একসঙ্গে সব পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে গেলেই এখন ভয় লাগে।

All Categories