আদানির বকেয়া নিয়ে ‘জটিলতার অবসান’

ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বাংলাদেশের সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আদানির পাওনা ৪৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এককালীন পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস আজ বুধবার (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানায়, আদানি পাওয়ারের ইতিহাসে বাংলাদেশ থেকে এটিই সর্বোচ্চ এককালীন অর্থপ্রাপ্তি। সাধারণত প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমাসে বাংলাদেশ থেকে ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পেত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বকেয়া মূল বিল, বিলম্ব সুদ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সব অর্থ পরিশোধ করায় পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) ও আদানির মধ্যে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি আবারও কার্যকরভাবে চলমান হয়েছে। সেই সঙ্গে চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আর্থিক আপত্তিগুলোও নিষ্পত্তি হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি পাওয়ার। সব পাওনা পরিশোধের পর প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দুটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিটই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্রিয় থাকে এবং পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ জুনের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ করলে বিলম্ব ফি মওকুফ করা হবে—এমন শর্ত ছিল। সময়মতো অর্থ পরিশোধ করায় বাংলাদেশ সে সুবিধা পেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিল পরিশোধে নিয়মিততা আনতে সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ একটি এলসি খুলেছে এবং বাকি পাওনার বিপরীতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিও দিয়েছে।

ইকোনমিক টাইমসের মে মাসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আদানি পাওয়ারের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া তখন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা দিলীপ ঝা জানান, ২০২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ১.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যার মধ্যে বিলম্বের কারণে ১৩৬ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত হিসেব করা হয়েছিল।

তবে আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী এস.বি. খ্যালিয়া আশ্বস্ত করে জানান, বকেয়া থাকা সত্ত্বেও কখনোই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়েই আদানির পাওনা প্রায় ৫০০ কোটি রুপি কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, আর্থিক নিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকেও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা আগে আদানির একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছিল, সেটিকে এখন মূল কোম্পানির সঙ্গেই একীভূত করা হয়েছে। এতে অপারেশন ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

All Categories