যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে চীন-রাশিয়ার সঙ্গে একজোট হচ্ছে ভারত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর বাণিজ্য ও কূটনীতিতে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর শুল্কনীতি ও একতরফা অবস্থান বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে চাপ ও উদ্বেগ। এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও রক্ষা পায়নি এই রোষানল থেকে।
তবে এবার এসব চাপ ও হুমকিকে আমলে না নিয়ে একযোগে কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছে বিশ্বের তিন প্রভাবশালী দেশ—চীন, রাশিয়া ও ভারত। একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন বেড়েছে, তেমনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে।
দীর্ঘ ছয় বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরের ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর আবারও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ছিল কড়া। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ক্রেমলিনে রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা (ট্রাম্পের) অনেক বিবৃতিই শুনছি, যেগুলো মূলত হুমকি। বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব হুমকি আমরা বৈধ বলে মনে করি না।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক সার্বভৌম দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। সেই অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত।
যদিও পেসকভের বক্তব্যে ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া মূলত নয়াদিল্লির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত বোঝাপড়ার পথ সুগম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম চীন সফরে যাচ্ছেন মোদি। ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সেনা সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল ভারতের নতুন কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলছে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতির ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন মেরুকরণের সূচনা হতে পারে, যা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।