যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিশোধমূলক’ শুল্কের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, আগামী শনিবার থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর আগে চীন মার্কিন পণ্যের ওপর ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বৃদ্ধির পর চীনও এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

চীন এ পদক্ষেপকে ‘অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ শুল্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ম এবং মৌলিক অর্থনৈতিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। চীন আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি কেবল ‘গুন্ডামি এবং জবরদস্তি’কেই আরও উন্মোচিত করছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের সরকার কোনো উসকানিকে ভয় পায় না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

চীন জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার শুল্ক বাড়ায়, তবে তারা আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না। একই সঙ্গে, গত ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তবে ৯ এপ্রিল তিনি জানান, চীন, কানাডা এবং মেক্সিকো বাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর শুল্ক আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে, এই ৯০ দিনের মধ্যে ওই দেশগুলোর জন্য ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।

এদিকে, চীনের শুল্ক বৃদ্ধির পর ইউরোপীয় স্টক মার্কেটগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিক কিছু উত্থানের পর বাজার নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই ধারা বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে এবং পণ্যের দাম বাড়াতে পারে, যা কোম্পানির মুনাফায় প্রভাব ফেলবে।

চীন ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-র কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি এ পরিস্থিতির মধ্যে অস্থিতিশীলতায় পড়তে পারে, বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

All Categories