‘যুদ্ধ শুরু’, বললেন খামেনি
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে উত্তেজনা পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলো’।
টানা ছয়দিন ধরে চলে আসা পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এটাই সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ঘোষণা।
এর ঠিক আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে 'সহজ লক্ষ্যবস্তু' আখ্যা দিয়ে হুমকি দেন। বলেন, যেকোনো সময় খামেনিকে হত্যা করা সম্ভব, তবে আপাতত তা করা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন তিনি।
তবে আজ বুধবার খামেনির ঘোষণা এবং এরপরের ঘটনা জানান দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি।
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালে ইরান ইসরায়েলের দিকে ‘ফাত্তাহ’ নামের একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তেহরানের দাবি, এটি শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম।
এদিকে ইরানের ছোড়া রকেট ইসরায়েল পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হচ্ছে বলে দাবি করছে জর্ডান। সিএনএন জানায়, আজ ভোরে রাজধানী আম্মান থেকে জর্ডানের আকাশসীমায় ইরানি রকেট গুলি করে ভূপাতিত করতে দেখা গেছে।
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস থেকেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
শুধু সামরিক হামলাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই সংঘাত। ইরানের সাইবার সিকিউরিটি কমান্ড জানিয়েছে, বড় পরিসরে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল। এতে ইরানের বিভিন্ন সরকারি ও অবকাঠামোগত তথ্যভাণ্ডারে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে।
অঞ্চলজুড়ে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।