ভয়ংকর SU-35 ও SU 30 প্রকাশ্যে আনছে ইরান
আকাশের দখল নিশ্চিত না করে বুঝি থামছে না ইরান ! ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে
হাসি-তামাশা কম হয়নি। সেদিনও ইরানের ঘরে এসে আঘাত হেনে গেল ইসরাইল, চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া
কিচ্ছুটি করতে পারলো না ইরান ! তবে সেদিন বুঝি ফুরোলো ভালভাবেই। গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান
বলছে- ইরান আর সেই ইরান আর নেই !
গোপনে গোপনে কিছু একটা যে ইরান করছে- সেটা আদতে সবার জানা। বলা হচ্ছে পারমাণবিক বোমা
হাতে পেতে আর দেরি করতে হচ্ছে না দেশটিকে। পশ্চিমাদের জন্য আতংক জাগানিয়া এ খবর
প্রকাশের দিনকয়েক পরেই শোনা গেল- রাশিয়া থেকে কেনা অত্যাধুনিক ভয়ংকর সু-৩৫ ও সু-৩০
যুদ্ধবিমান প্রকাশ্যে আনছে খামেনির দেশ। এর মাধ্যমে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে
এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পথে তেহরান। আর এতেই ঘুম উড়ে গেছে দেশটির শত্রুপক্ষের!
গণমাধ্যম জানাচ্ছে- আগামী ১৯ মার্চ এক মহাআয়োজনের মাধ্যমে ভয়ংকর সু-৩৫ ও সু-৩০
বিমানগুলো প্রকাশ্যে আনতে যাচ্ছে ইরান। বিশেষ করে ‘নওরোজ’ বা পারস্য নববর্ষের আগমনকে
সামনে রেখে এমন বিশেষ উন্মোচন করতে যাচ্ছে দেশটি। যা নতুন বছরে আশা ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে
আনার প্রতীক। ঠিক সেই সময়ে নিজের সামরিক শক্তির এক নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা দিতে যাচ্ছে
তেহরান। সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে সু-৩৫ বিমানের ঝাপসা ছবি। যা দুনিয়া জুড়ে সৃষ্টি করেছে
বেশ আলোড়ন।
গত জানুয়ারিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি’র উপসমন্বয়ক আলি শাদমানি
নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার অত্যাধুনিক সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে ।
যদিও কতটি বিমান হাতে এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা ধারণা
করছেন, ইরান প্রাথমিকভাবে ৫০টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে।
রাশিয়ার এই যুদ্ধবিমানগুলোর আগমনে ইরানের বিমানবাহিনী এক নতুন শক্তি পাবে, বিশেষ করে
তাদের আকাশে প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ । বর্তমানে ইরান যা কিছু আধুনিক বিমান
ব্যবহার করছে, তা বেশ পুরনো, যেমন মিগ-২৯ এবং ফ-১৪, যেগুলো বেশ কয়েক দশক আগে কেনা
হয়েছিল।
শাদমানি আরো বলেন, ‘যতটুকু প্রয়োজন, আমরা আমাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছি। আমাদের মিসাইল
শক্তি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, এবং যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য ভয়ঙ্কর
পরিণতি অপেক্ষা করছে।’
সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৪.৫-জেনারেশন যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে
অন্যতম। এটি এমন একটি বিমান, যা আধুনিক রাডার, অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা এবং অত্যন্ত
সুপার ম্যানুভারযোগ্য হওয়ায় আকাশযুদ্ধে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এই বিমানটি এমনভাবে
ডিজাইন করা হয়েছে, যা আকাশে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত সহজে মোড় নিতে পারে
এবং শত্রুদের উপর আক্রমণ করতে সক্ষম।
বিশ্বের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিমান ইরানকে শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক
শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দেবে। বিশেষ করে, ইসরায়েল বা পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে তা
একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
রাশিয়ার সু-৩৫ ও সু-৩০ হাতে পেয়ে যেমন বেড়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ঠিক তেমনি দেশটির
সামনে এনে দিয়েছে এক বিশাল সামরিক চ্যালেঞ্জ। এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমরাস্ত্রের
ব্যবহারে পশ্চিমা শক্তিগুলোর আরও বেশি নজরদারির মুখোমুখি হবে ইরান। যা দীর্ঘমেয়াদে
আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।